শীতের ছুটি। কিন্তু শীত বা ছুটি কোনটিই বাস্তবে সত্যি নয়। ট্রাম্পের “গ্লোবাল ওয়ার্মিং একটি হোক্স” বক্ত্যব্যটি যে কত অসত্য তা এই ফেব্রুয়ারির দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এই সময় শহরটির বরফে ডুবে থাকার কথা। বরফ কোথায়, এখনই ঘাস মাথা বের করছে। এত দিনে কাজের যে পাহাড় জমিয়েছি তা এই অস্বাভাবিক শীতের “ছুটি” তে শেষ করব বলে কথা দিয়েছি। এর মধ্যে আছে মাত্র ৪৫ টি লেখা পড়ে ফিডব্যাক দেয়া! ছাত্রছাত্রীদের লেখায় মন্তব্য করতে গিয়ে টের পেলাম, কাগজে কলমের সাথে আগের মত মিতালী নেই। কলম-পেন্সিলের ব্যবহার দৈনন্দিন জীবনে অতি সীমিত হয়ে পড়েছে। অল্প কয়েকটি মন্তব্য লিখেই হাতে মৃদু ব্যাথা অনুভব করছি। এখন ভাবলেও অবাক লাগে সেই চার ঘন্টার পরীক্ষাগুলোতে একটানা কীভাবে লিখতাম!
জনৈক এক ব্যাক্তি একদিন খুব কাঁচুমাচু মুখ করে জিজ্ঞেস করল, “কম্পিউটারে কীভাবে বাংলা লিখতে হয়, আমাকে একটু শিখিয়ে দিবেন? আপনাকে প্রায়ই লিখতে দেখি আর অবাক হয়ে ভাবি আপনি কীভাবে লিখেন।” আমিও অবাক হয়েছি প্রশ্নটি শুনে। কারণ কী-বোর্ডে বাংলা লেখা সে তো কবেই জল-ভাত হয়ে গেছে। যাইহোক, ব্যক্তিটির কম্পিউটারে অভ্র ডাউনলোড করে দিলাম। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই তিনি ধবধবে স্ক্রিনের সাদা কাগজে বাংলা লিখতে শুরু করলেন। নিজে নিজে সফলভাবে একটি শব্দ লিখে তিনি অতি বিস্মিত হয়ে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বললেন, ” বাংলা লেখা তো খুব সহজ। আমি ভেবেছিলাম খুব কঠিন, তাই চেষ্টাই করিনি।” সেই আনন্দ উজ্জ্বল মুখ দেখে মনে হল, নাহ এই আনন্দ একদম খাঁটি!
আমার একজন বন্ধু আছেন। তিনি বাঙ্গালীর (মাতৃভাষা বাংলা ব্যবহারকারী) সাথে সোশাল মিডিয়া, ইমেইল, এবং টেক্সট মেসেজে শব্দ আদান প্রদান করার সবসময় বাংলায় টাইপ করেন। অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভিন্ন ভাষার ব্যবহার একদম নেই। বন্ধুটি এই বিষয়ে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। শুধু এই বাঙালি বন্ধুটি নয়, এর মধ্যে অন্য ভাষা ব্যবহারকারীরাও আছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় সাউথ কোরিয়ান, ম্যান্দারিন, এবং ক্যান্টোনিজ ভাষা ব্যবহারকারীদের কথা। সোশাল মিডিয়া, ইমেইল, এবং টেক্সট মেসেজ সব কিছুই নিজেদের ভাষায় ব্যবহার করছে। গুগলের মত তাঁদেরও আছে শক্তিশালী সার্চ ইঞ্জিন যেখানে নিজেদের ভাষাতেই সার্চ করতে পারছে এবং প্রয়োজনীয় সবকিছুই নিজেদের ভাষাতেই আছে ওয়েবগুলোতে। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় দেখলাম আরবি ভাষার ব্যবহার। কম্পিউটার, ফোন, অনলাইন সবকিছুতেই আমার আরবি ব্যবহারকারি ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ভাষা স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার করছে। আমি এঁদের সবার দ্বারাই অনুপ্রাণিত অনলাইন এবং টেক্সট মেসেজে বাংলা লেখায়। একটি আশা যে অল্প অল্প করে হলেও এই প্লাটফর্মগুলোতে বাংলার ব্যবহার বাড়ুক। আশা যে ইউটিউব এবং গুগলে বাংলা টাইপ করে সার্চ দিলে খোঁজার পাতা গুলো নারীর স্তন, পুরুষের লিংগ, সহবাস, যৌন আবেদনে যেন ভরে না যায়। 

ফোনে বাংলা ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেন বৃদ্ধি পায়, বৃদ্ধি পায় যেন সহজে ব্যবহার করা যায় এমন বাংলা লেখার অ্যাপের সংখ্যা, এবং অ্যাপ ডেভেলপারের সংখ্যা।
পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে ছোট্ট এক শহরে কোন এক তুষারময় বিষন্ন বিকেলে নিজের ভাষায় লিখতে পারার যে আনন্দ, এর জন্য ১৯৫২, অভ্র, এবং ফোনে বাংলা টাইপ করার সকল অ্যাপ ডেভেলপারদের প্রতি আরেকবার কৃতজ্ঞতা।