আমার আঙ্গুলের ভাঁজে খেলা করে
তোমার নৈঃশব্দিক প্রতিশব্দ
আমার আঙ্গুল ছোঁয় তোমার ঠৌঁট,
চিবুক, তোমার উষ্ণ করপুট
মৌন মন্থরে, সন্তর্পণে
উঁকি দেয়-
তোমার হৃদয় গহ্বরে।
(কানে শুনতে পায়না এবং কথা বলতে পারেনা, এমন লোকের সংস্পর্শে খুব দীর্ঘক্ষণের জন্য আমার খুব একটি আসা হয়নি। গতবছর একটি কনফারেন্সে গিয়েছিলাম।বড় ঘরটি জুড়ে অনেক মানুষ কিন্তু কোন শব্দ নেই। শব্দ নেই কিন্তু মনের ভাব প্রকাশ থেমে থাকেনি।ভাষা শিক্ষা এবং তা শেখানোর নানান জটিল কলাকৌশল নিয়ে সবাই তুমুল আলোচনা চালিয়ে গেল স্বরযন্ত্রের কোনরকম সাহায্য ছাড়াই।
আমার পাশের কবি বন্ধুটি চোখ বড় বড় করে বললো, “ওঁদের আঙ্গুলের ছন্দগুলো ঠিক নাচের মুদ্রার মত। মনের ভাব প্রতিটি আঙ্গুলের ডগায়, ভাঁজে কেমন খেলে বেড়াচ্ছে! এই নিয়ে আমার একটি কবিতা লেখা উচিত”। আমি নিজে কবি নই, কখনো কবি হওয়ার চেষ্টাও করিনি। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে দেখা যায়, কবিদের সাথে প্রতিটি জায়গাতেই কেমন করে জানি দেখা হয়ে যায়। কেউ হয়তো বাংলায় শোনায় তাঁর গত সপ্তাহের কবিতাটি, কেউ ইংরেজিতে গতকাল রাতের কবিতা অথবা কেউ উর্দু থেকে অনুবাদ করে তাঁর ব্যাকুলতা। আমার ভালো লাগে যখন এঁরা সবাই উন্মুখ হয়ে বলে, “শোন শোন আর একটা”, “হেই, লিসেন!” অথবা পুরানো ডায়েরি পাতা উল্টাতে উল্টাতে দেখায় তাঁর শায়েরীগুলো।
নাহ, আমার কোন মোটা মলাটের পুরনো ডায়েরী নেই। ক্লাস বা সেমিনারের নোটের আঁকিবুঁকিতে আছে কিছু ছেঁড়া শব্দ।)